|
|||
|
(প্রথম পর্ব) সেই স্বাধীনতার পর থাইকা গত উনচল্লিশ বছরে বাংলাদেশে আমরা কত কিছু না করলাম, কত ভেকই না ধরলাম - সব ঘুইরে মাগুর চ্যাং। খালি যেইখান থাইক্কা শুরু করি সেইখানেই ফিররা যাই - না তাও না, আমরা আরো অনেক পিছায়া যাই। একদিকে আমরা ঘুইরে মাগুর চ্যাং হইয়া পিছাইতেই থাকলাম, আর আরেকদিকে আমাদের ভালোভাবে বাইচা থাকার, অর্থসামাজিক উন্নতির অন্তরায় মূল সমস্যাগুলি জমতে জমতে টিলা থাইক্কা পাহাড় হইলো, পাহাড় থাইক্কা মহা পর্বত হইতাছে আমাগো শেষ চাপা দেওয়ার জন্য। আমাগো শাসক শ্রেণীর কোনো হুশ নাই. মাঝে মধ্যে তারা আমাদের মূল সমস্যাগুলার কিছু প্রান্তিক উপসর্গের উপর কিছুটা প্রলেপ দিয়া মহা আত্মতৃপ্তিতে গদগদ হয়, যে অনেক কিছুই কইরা ফালাইলাম – আর মগ্ন হয় নগ্ন অন্তহীন আত্মপ্রচারে, ভীষন মশগুল থাকে মনগড়া অবান্তর ঈশুর, ক্ষমতা দখলের আর লুটপাটের কায়জ্জায়। আমাগো শাসক শ্রেনীর কোনো খবর নাই যে এই সমস্যার পর্বত তাগোও শেষ চাপা দিতে ছাড়বো না। তারা কি এতই নির্বোধ, তারা কি এখনো ভাবে তারা এবং তাগো বংশধররা এইভাবেই সাধারণ মানুষের মাথায় চুন রাইক্ষা তাদের বিলাসবহুল জীবন উপভোগ করতে থাকবো? যখন বাংলাদেশ সমস্যার পর্বতের নিচে শেষ চাপা পরবো, তাদের বেশিরভাগেরওতো পালানোর কোনো জায়গা থাকবো না! কি নির্বোধোতায়, কি ভুলে, কি অজ্ঞতায়, আর কি মানসিকতার দোষে আজকে আমরা স্বাধীনতার উনচল্লিশ বছর পর স্বাধীনতার অসফল স্বপ্নগুলি নিয়া এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দারপ্রান্তে আইসা দাড়াইলাম? সবচেয়ে মৌলিক, সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী পরিনামের বড় ভুলগুলি আমরা আমাদের অজ্ঞতার আর উপনিবেশিক-সামন্ত্রতান্ত্রিক মানসিকতার কারনে স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই কইরা ফালাইছিলাম! ব্রিটিশ শিক্ষিত জনবিছিন্ন কযেকজন আইনজীবী ব্রিটিশ মার্কা একটা মহান লিবেরাল ডেমোক্রাটিক সংবিধান রচনা কইরা দিল, আর আমাগো অর্ধ ব্রিটিশ শিক্ষিত রাজনীতিক পার্লিয়ামেন্তারিয়ানরা কিছুই না বুইঝা, কিছু গভীর চিন্তা ভাবনা বাদেই ছাগলের তিন নম্বর বাচ্ছার মত লাফাইতে লাফাইতে এই সংবিধান পাস কইরা দিল! এমন সংবিধান, যা কিনা সুইডেন বা সুইজারল্যান্ড এর মত অতি উন্নত দেমক্রাতিক সমাজের জন্যও বেশি লিবেরাল হইয়া যায়, আর আমরা তো আমরা - কযেক হাজার বছরের ব্রামন্নের, সাতশ বছরের মুঘলের আর পচিশ বছরের পাকিস্তানি পেদানি খাওয়া সদ্য স্বাধীন দরিদ্র অক্ষরগানহীন সামন্ত্রতান্ত্রিক বাঙাল কৃষক সমাজ। কিসের সাথে কি? কি ভীষন বেমানান এক সংবিধান। কিছু বিদেশীরা বাহবা দিল আর আমরাও মহা আত্মতৃপ্তিতে গদগদ এই কাগুজে ভীষন বেমানান সংবিধানের মহান মজমায় - আমরা এক অতি পশ্চাদপদ সামন্ত্রতান্ত্রিক বাঙাল কৃষক সমাজ রাতারাতি এক লিবেরাল ডেমোক্রাটিক সমাজের ভেক ধরলাম। আমরা সব্বাই ভান করলাম অথবা নির্বোধের মত বিশ্বাস করলাম স্বাধীনতা মানে শুধু একটা লিবেরাল ডেমোক্রাটিক সংবিধান এবং একটা কোনোরকমে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার - এইকয়টা হইলেয়ী স্বাধীনতা হইআ গেল, স্বাধীনতার সব স্বপ্নও মেজিকের মত এমনি এমনিই পুরা হইআ যাইবো - জনগনের সব মৌলিক অধিকার আপনা আপনি প্রতিষ্ঠা হইয়া যাইবো, দেশের মানুষের সব সুপ্ত শক্তি ও প্রতিভা আপনা আপনিই বিকশিত হইয়া নিজেদের ভাগ্যউন্নয়নে নিয়জিত হইবো। আমরা আমাদের উপনিবেশিক-সামন্ত্রতান্ত্রিক মানসিকতায় আমাদের নিজেদের বাস্তবতা বিবেচনা করলাম না, আমাদের সাথে সামাজিক আর অর্থনৈতিক সামঞ্জস্যপুর্ন কিন্তু সফল সদ্য স্বাধীন অন্য দেশগুলি কি ভাবে অগায়ছিল এবং কিভাবে আগাইতেছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর বিচার-বিশ্লেষণ কইরা দেখলাম না - খালি সংবিধান নকল কইরা রাতারাতি ব্রিটিশ হইতে চাইলাম - আমরা লিবেরাল ডেমোক্রাটিক সংবিধানের একটা দামী ব্রিটিশ ডিনার জাকেট আমাগো আন্ডারওয়ার বিহীন ছিরা লুঙ্গি, ফুটা গেঞ্জি আর জীর্ণ ফতুয়ার উপর চাপায়া দিয়া এক অদ্ভুত ভেক ধরলাম. আমরা বুঝলামইনা স্বাধীনতার মানে কি? স্বাধীনতা কি জিনিস? আমরা আর কিছুই করলাম না - সবচেয়ে মৌলিক, সবচেয়ে জরুরী কাঠামোগত পরিবর্তনগুলিই করলাম না। আমরা উপনেবিশিক-সামন্ত্রতান্ত্রিক দাস মানসিকতার গন্ডির বাইরে যাইতে পারলাম না। আমাদের নতুন ভেক, স্বপ্নবিলাস, আর অবাস্তব আশা নিয়া বৈসা থাকলাম আর স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রের সব মৌলিক প্রাথিষ্ঠানিক কাঠামোগুলি রইয়া গেল আগের মতই, উপনিবেশিক ও সামন্ততান্ত্রিক - সব গোলামির আর দাসত্বের জিনজির গুলি আগের মতই জায়গা মত রাইখ্যা শুধু তাদের নামের আগে বাংলেদশ লাগায়াই আমরা আত্মতৃপ্ত হইলাম - আমরা স্বাধীন হইয়া গেছি, সব স্বাধীন হইয়া গেল! গণতন্ত্র। গণতন্ত্র সীমাবদ্ধ থাকলো মূলত সংসদ নির্বাচন আর ঢাকা ভিত্তিক সংসদ। সাংসদরা জনপ্রতিধনিতা করার বদলে বৈনা গেলেন আঞ্চলিক রাজা – জনগনের কাছে তাগো জবাবদিহিতা করার বদলে জনগণই হইয়া গেল তাদের কৃপা ভিখারী প্রজা অথবা দাস। তারপর, সংসদও হইআ গেল আরো বড় নেতাদের রাবার স্টাম্প - সাংসদরাও জনগনের পক্ষে সরকারের জবাবদিহিতা নেওয়ার বদলে নিজেদের বেক্তিগত বৈত্ত, বিভব আর ক্ষমতা বৃদ্ধির দৌড়ে হইআ গেল সরকারের আনুকুল্য ও কৃপা ভিখারী সহযোগী। নির্বাচনগুলিও রূপ নিল ভোটিং বুথ আর ভোটের বাক্স দখলের যুদ্ধে। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলার মধ্যে অভ্ভন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা, যা কিনা পাকিস্তানি আর ব্রিটিশ আমলেও ছিল, তাও আস্তে আস্তে বন্ধ হইআ গেল - প্রায় সব ধাপের দলীয় কমিটিগুলি গঠন হইতে লাগলো শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে, সিলেকশনের মাধ্যমে। আর গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি তৃনমূল গণতন্ত্র, যা কিনা সাধারণ জনগনের ক্ষমতায়নের, মৌলিক অধিকার প্রথিষ্ঠার ও সত্যিকারের স্বাধীনতা প্রথিষ্ঠার মূল ভিত্তি; এবং যা কিনা নিরক্ষর সাধারণ মানুষেকে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক দায়িত্ব ও গণতন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগ শিখানোর একমাত্র্র পাঠশালা, সেই তৃনমূল গণতন্ত্র প্রথিষ্ঠা করার ধরে কাছে দিয়াও কেও গেল না। গণতন্ত্রকে তৃণমূলে নিয়া যাওয়ার বা জনগনকে তাদের নিজেদের প্রশাসনে সম্পৃক্ত করার কোনো উদ্যোগ পর্যন্ত নেওয়া হইলো না – সম্ভবত আমলাদের এবং সাংসদদের কারসাজিতে, তাদের আঞ্চলিক ক্ষমতা নিরঙ্কুশ রাখতে। তৃনমূল গণতন্ত্র সনাতন উপনিবেশিক ধারায় ঠুটো জগন্নাথ ইউনিয়ন কাউন্সিল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকলো - আমলাদের কতৃত্বের আর নিয়ন্ত্রনের অস্ত্র হিসাবে আর জনগনকে নিজেদের মধ্যে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র সরকারী কৃপা ভিক্ষার সংকীর্ণ ভিলেজে পলিটিক্সে বাস্ত রাখতে। আমাদের নেতারা আর রাজনীতিকরা তাদের উপনেবিশিক-সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতায় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বদলে এক কঠিন সামন্ত্রতান্ত্রিক আদলে বাইন্ধা ফালাইলেন পশ্চাদপদ নিরক্ষর জনতার অজ্ঞতার সুযোগে। লিবেরাল সংবিধানের আলখেল্লার আড়ালে সামন্ত্রতান্ত্রিক গণতন্ত্র চালু হইআ গেল, এবং অবধারিতভাবেই গণতন্ত্র ও রাজনীতির ক্রম দুর্বিত্তাওন শুরু হইআ গেল পুরাদমে। আমলাতন্ত্র - প্রশাসন ও অর্থনীতি। উপনিবেশিকতার মূল ধারক ও বাহক আমলাতন্ত্র যা কিনা এর জন্মসুত্রে আর গঠনে ও প্রশীখনে মজ্জাগত ভাবে জনবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীল, সেই বিষ বৃক্ষ সমূলে উপড়ানোর ও একে গণমুখী আদলে পুনরগঠনের একটা সুবর্ণ সুযোগ দিল স্বাধীনতা। আমরা এই সুযোগ তো নিলামই না, বরং আরো নিকৃষ্ট ধাচে এই বিষ বৃক্ষের শাখা প্রশাখা নতুন রাষ্টের পঙ্গু প্রশাসনসহ অর্থনীতিরও সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে অঙ্গেও বিস্তারের ব্যবস্থা কইরা দিলাম। এর পরিধি আর কলেবর বৃদ্ধি হইলো বহুগুন, এবং এর নেতৃত্ব গেল গুণগত ভাবে নিকৃষ্ট এবং অতি অনভিজ্ঞ অস্সিস্তান্ট আর ডেপুটি সেক্রেটারি থাইক্কা রাতারাতি অটো প্রমোশন পাওয়া সেক্রেটারীদের হাতে। আমলাতন্ত্র শুধু যে উপনিবেশিক সনাতনোতায় লোকাল, থানা, মহকুমা, জেলা, বিভাগীয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারী প্রশাসনে আগের মতই জাকায়া থাকলো জনগনের উপনিবেশিক প্রভু ও ঘুষখোর শোষক হিসাবে তা না। নতুন রাষ্ট্রিয়াত্ত বাংক, কলকারখানা, বাবসা প্রথিষ্ঠান, এবং নতুন নতুন সরকারী বাব্সায়িক আর বানিজ্যিক কর্পোরেশন এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিরও রন্ধ্রে রন্ধ্রেও ঢুইকা গেল। ব্যাঙ্ক, বীমা, জুট মিল, টেক্সটাইল মিল, স্টিল মিল, কেমিকাল ইন্ডাস্ট্রী, ভোজ্য সামগ্রীর, ইন্ডাস্ট্রী, ডকইয়ার্ড, শিপইয়ার্ড, শিপিং, বিমান, পর্যটন, এমনকি কৃষি সহ বহু ভোগ্যোপন্নো আমদানি, বিতরণ, বিপননের সব বড় ব্যবসা কিচ্ছু বাদ রইলো না, সব চইলা গেল উপনিবেশিকতার প্রতিভু এই বিষ বৃক্ষের অধীনে। এই নতুন অটো প্রমোশন পাওয়া আমলারা, যারা নাকি এমনকি তাদের সনাতন উপনিবেশিক ধারার নীতি প্রনয়ন ও সরকারী প্রশাসন চালানোর কাজের জন্যও ছিল নিতান্ত অনভিজ্ঞ ও অযোগ্য, তাদের দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ও চালিকা শক্তি এই সব ইন্ডাস্ট্রী ও ব্যবসা চালানোর নুন্যতমও যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতাই ছিল না। আসলে, আমাদের চরম দুর্ভাগ্য, তাদের মজ্জাগতত উপনেবিশিক প্রশিক্ষণ, মানসিকতা, গোষ্ঠী সার্থের প্রতি বিশস্থতা এবং ব্যবসা বানিজ্য সমন্ধে চরম অজ্ঞতা বিচার করলে - আমরা বোধয় আমাদের অর্থনীতির বারোটা বাজানোর এবং অর্থনৈতিক আত্মহত্যা করার এর চেয়ে ভালো আর কোনো ব্যবস্থা করতে পারতাম না। দেশের অর্থনীতিও তাদের অধীনে চইলা গেল রসাতলে যাওয়ার জন্য। একটা জনসম্পৃক্ত প্রশাসন ও সুশাসনের সহাঅতায় যেইখানে একটা উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও জনমুখী অর্থনীতি জনগনের সুপ্ত উদ্যোগী শক্তি ও প্রতিভা অশ্রিঙ্খলিত কইরা দেশকে সত্যিকারের স্বাধীনতা আর অর্থনৈতিক মুক্তির পথে অগায়আ নিতে পারত, তার বদলে ক্রনি বা স্বজনতোষণ কেপিটালিজম প্রথিষ্ঠা পাইয়া গেল সরকারী টাকা আর বেঙ্কের আমানত লুটপাট করার জন্য, জনগনের সব সুপ্ত উদ্যোগী শক্তি ও প্রতিভা বিকশিত করার পথ রুদ্ধ কইরা। এর সাথে সাথে একটা অনেক বড় ও সুদূরপ্রসারী ক্ষতিও হইআ গেল - উপনিবেশিক প্রশাসনসহ এইরকম ভয়ানক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা একটা কায়েমী প্রথিষ্ঠা পাইআ গেল - এই আমলা বিষ বৃক্ষের হাতে সরকারী যন্ত্রের সব কল কাঠি থাকাতে, ভবিষ্যতেও এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করা একরকম অসম্বভ থাইক্কা গেল - যার জের আমরা এখনো টানতেছি। পুলিশ। উন্নত দেশে পুলিশ নাকি জনগনের বন্ধু! বাংলাদেশের পুলিশ জনগনের বন্ধু? - হাসুম না কান্দুম! ব্রিটিশ আমলে এইদেশে পুলিশের জন্মই হইছিল উপনিবেশের অভ্ভন্তরীণ নিরপত্তা রক্ষায় - সাধারণ মানুষের উপর নজরদারি, খবরদারি আর ডান্ডাবাজি করার জন্য - যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে কোনো বিপ্লবী আর বিদ্রোহী ভাবনা চেতনা দানা বান্দথে না পারে! সাধারণ আইনে শৃঙ্খলা রক্ষা আর অপরাধ দমনের কাজটা ছিল গৌণ, তবে তাও ছিল উপনিবেশ রক্ষার একটা সুক্ষ কৌশল হিসাবে - একটা আইনি সুশাসনের প্রলেপ দিয়া সাধারণ মানুষকে ঠান্ডা রাখা ও পুলিশ নামের যোক্তিকতা দেখানোর জন্যো। জন্মসূত্রে পাওয়া জনগনের উপর খবরদারি আর ডান্ডাবাজি করার সীমাহীন ক্ষমতা আর জনগনের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা না থাকার কারনে, এই উপনিবেশিক পুলিশের ক্রমে ক্রমে দুর্নীতিগ্রস্থ ও জনসাধারণের জালিমে পরিনত হইআ পড়া ছিল অবসম্ভাবী। ব্রিটিশ আমলে জনগনের কাছে দায়বদ্ধতা না থাকলেও, সাধারনভাবে আর্থিক-দুর্নীতিমুক্ত উপনিবেশিক প্রশাসনের শক্ত নিয়ন্ত্রনে থাকার কারনে পুলিশের দুর্নীতিও অনেকটা নিয়ন্ত্রনে ছিল! পাকিস্তান হইলো, শক্ত উপনিবেশিক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ চইলা গেল। তার বদলে পুলিশের উপর জনগনের কাছে দায়বদ্ধতা আরোপ করাতো দুরে থাক, এর নিয়ন্ত্রণ গেল নামে পাকিস্তানি আমলাদের হাতে আর বাস্তবে ক্ষমতাসীনদের কাছে। দুর্বল, দুর্নীতি প্রবন ও ক্ষমতাবিলাসী রাজনীতিক আর ক্ষমতাগ্রাসী সামরিক প্রভুদের স্বার্থে পুলিশ আর আমলা দুইই দিনে দিনে হইআ উঠলো দায়বদ্ধতাহীন অসীম ক্ষমতাধর। আমলাদের সনাতন উপনিবেশিক মানসিকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতার সাথে যোগ হইলো দায়বদ্ধতাহীন অসীম ক্ষমতা -ক্রমে ক্রমে তাদেরও দুর্নীতিগ্রস্থ পরিনত হইআ পড়া হইআ গেল অবসম্ভাবী - পুলিশরে আর পায় কে! এই দুর্নীতিগ্রস্থ আর ক্ষমতাসীন তোষনকারী দুর্নীতিগ্রস্থ আমলাদের নিয়ন্ত্রনে অসীম ক্ষমতা নিয়া পুলিশ উপনিবেশ রক্ষার বদলে ক্ষমতাসীনদের রক্ষায় নাইমা গেল আরো প্রবল ভাবে। দিনে দিনে ক্ষমতাসীনদের আর আমলাদের সাথে পুলিশের পারস্পরিক স্বার্থের যোগসাজগে তাদের উপর আমলাদের যেই নিয়ন্ত্রণ ছিল তা দুর্বলতর হইতে থাকলো আর তাদের ঘুষ দুর্নীতি আর জালিমবাজি জামাতিক হারে বাড়তে লাগলো! বাংলাদেশ স্বাধীন হইলো, স্বাধীন বাংলাদেশেও একই নাটকের পুনরাবৃত্তি হইলো - যেই পুলিশের এত পেদানি খাইলো জনতা আর নেতারা, সেই পুলিশরেও আমরা তাদের উপনিবেশিক ক্ষমতা, আইন কানুন, কাঠামো এবং জনগনের কাছে দায়বদ্ধতা ছাড়া সবসমেত একই ভাবে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে রাইখ্যা দিলাম। কেন? - পাকিস্তানি ধারায় ক্ষমতা আক্রায়া থাকার সহায়োক হিসাবে? পাকিস্তানিদের পরিনিতি দেইখাও শিখলাম না। অবধারিতভাবেই ক্ষমতাসীনদের আর আমলাদের সাথে পুলিশের পারস্পরিক স্বার্থের যোগসাজগেপুলিশের ঘুষ দুর্নীতি আর জালিমবাজি আরো তীব্রতর জামাতিক হারে বাড়তে লাগলো - পাকিস্তান আমলে শুনতাম পুলিশে ছুইলে আঠার ঘা, এখন স্বাধীন বাংলাদেশে, স্বাধীনতার উনচল্লিশ বছর পরে জনগনের রক্ষাকারী, জনগনের বন্ধু, দেশের সবচে বড় সংঘঠিথ অপরাধচক্র পুলিশে ছুইলে কত ঘা? উনচল্লিশ হাজার - উনচল্লিশ লক্ষ - উনচল্লিশ কোটি ঘা? কি ভীষন বেকুবই না আমরা। বিচার ব্যবস্থা। দুইশ বছরের ঘুনেধরা প্রশাসনের কত্রিত্তাধীন উপনবেশিক ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থা যেমন ছিল তেমনি থাকলো - কযেক শত বছরের পুরানো ফোওজদারী আর দেওয়ানি আইন থাকলো – একই কোর্ট সিস্টেম থাকলো, খালি একটা নয়া সুপ্রিমকোর্ট যোগ হইলো স্বাধীনতার ভেক নিদর্শন হিসাবে। নিচের কোর্ট গুলি চলতে থাকলো আগের মতই উপনিবেশিক ধারায় শিক্ষিত আমলা বিচারকের অধীনে আর অর্ধ শিক্ষিত চৈত্র মাসেও কালা কোট পরা উকিল, মোক্তারের সওয়াল জবাবে - মূলত দুর্নীতি আর টাকার খেলায়। হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্ট চলল আগের মতই ব্রিটিশ উপনিবেশিক ধারায় শিক্ষিত জনবিচ্ছিন্ন ক্লাউন এর মত কালো আলখেল্লা আর উইগ পরা বিচারক আর ব্যারিস্টারের তাত্ত্বিক আইনি তর্কে, জনতার অবোধগম্য ইংরেজি তর্কে। তারা মূলত নিয়জিত হইলো ক্ষমতাসীন, বিত্তবান আর বড় অপরাধীদের রক্ষায়, যাদের ওই দুই কোর্টে যাওয়ার আর্থিক সমর্থ আছে তাগোরে রক্ষায়, তাগোরে আইনের উর্ধে রাখতে। আমাদের বেমানান মহান লিবেরাল ডেমোক্রাটিক সংবিধান এই ব্যবস্থা ভীষন জোরদার কইরা দিল অসংখ নুতুন আইনি ফাক ফোকরের যোগান দিয়া। এককথায় শাসক, শক্তিমান, বিত্তবান এবং বড় অপরাধী সহায়োক উপনিবেশিক বিচার ব্যবস্থা আরো জোরদার হইলো ভীষন বেমানান এক সংবিধানের সহাঅতায়। সশস্ত্র বাহিনী। বাংলদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মুখ্য শত্রুই ছিল পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী। পাকিস্তানি শাসক শ্রেণী, পাকিস্তানি উপনিবাশিকতা আর সামন্ত্রতান্ত্রিকতার দম্ভের মূর্তিমান প্রতিভু ছিল এই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী - যার জারজ জন্ম হইছিল ভারতবর্ষের ইতিহাসের এক করুন সন্ধিক্ষনে; ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার গর্ভে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔরষে আর ব্রিটিশ দালাল আর মীরজাফর সামন্ত রাজাদের আতুরঘর সহযোগিতায় –আঠারশ সাতান্নর মহান সিপাহী বিপ্লব দমনে। এর জারজ জন্মের পরিপার্শিকতাই নির্ধারণ কইরা দিছিলো এর চরম সামন্ত্রতান্ত্রিক, উপনিবেশিক এবং জনবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্র ও মানসিকতা। এই উপনিবেশিক সশস্ত্র বাহিনীরই নিকৃষ্টতম উত্তসুরিই পাকিস্তানি সসস্ত্র বাহিনী - যেইখানে একই আদলের ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রনে শুধু রাষ্ট্রের বহিঃশত্রুর বিরুধ্যেই নিয়জিত থাকলো এবং গণতন্ত্র ও অন্যান্য শক্তিশালী কাঠামোগত রাষ্ট্রীয় প্রথিষ্ঠানের প্রভাবে অতি ধীরে ধীরে হইলেও একটা জনমুখী প্রথিস্ঠানে পরিবর্তিত হইতে থাকলো, সেইখানে রাজনৈতিক ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রথিশ্ঠানিক দুর্বলতায় ও নিয়ন্ত্রণহীনতায় পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী হইআ উঠলো একরকম দেশের মালিক, দায়বদ্ধতাহীন একচ্ছত্র শাসক। সামন্ত ভুসসামি ও উচু শ্রেণী থাইকা একছত্রভাবে নিয়জিত অফিসারদের অধীনে দায়বদ্ধতাহীন পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী জনমুখী হইআ উঠার বদলে, এর উপনিবেশিক চরিত্র থাইক্কা আরো এক ধাপ পিছায়া এই বাহিনী তার একচ্ছত্র ক্ষমতার ছায়ায় প্রশিক্ষনে, আচার ব্যবহারে, মানসিকতায় ও চরিত্রে হইআ উঠলো এক পুরাদস্তর মধ্যযুগিও সামন্ততান্ত্রিক বাহিনী। ইতিহাসের কি নির্মম পরিহাস, যেই পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধ হইলো, যেই বাহিনীর হাতে লক্ষ লক্ষ বাঙালি প্রাণ দিল স্বাধীনতা যুদ্ধে, সেই রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলাদেশে, আমরা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী প্রথিষ্ঠা করলাম অবিকল সেই ঘৃণীত মধ্যযুগিও সামন্ততান্ত্রিক পাকিস্তানী বাহিনীর নকলে, -কাকুলীয় আদলে অবিকল সেই একই আইন আর কাঠামোর মধ্যে একই প্রশিক্ষনে, মানসিকতায়, চরিত্রে ও আচার ব্যবহারে। শুধু নামের আগে লাগাইলাম বাংলাদেশ, আর কাপ্টেন মেজরদের রাতারাতি অটো প্রমোশন দিয়া বানাইলাম জেনেরাল। বাস স্বাধীন বাংলাদেশী সশস্ত্র বাহিনী হইয়া গেল। যদিও অফিসাররা এখন মধ্যবিত্ত ও নিন্মমধ্হবিত্ত শ্রেণী থাইকা নিয়জিত, তাতে কোনো লাভ হইলো না - তারাও একই আইন আর কাঠামোর মধ্যে একই প্রশিক্ষনে আর অফিসার শ্রেনীর জন্য অতি সুবিধাজনক বিদ্যমান প্রাথিষ্ঠানিক সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার প্রবল প্রভাবে রইয়া গেলেন মানসিকতায়, চরিত্রে ও আচার ব্যবহারে চরম সামন্ত্রতান্ত্রিক। বরং তাদের নবলদ্ধ সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা আর দুর্বল মধ্যবিত্ত চরিত্রের অসম মিশ্রনে এই বাহিনী গৈড়া উঠলো একটা ভীষন অস্থির উচাভিলাসী ও অপরিপক্ক সশস্ত্র বাহিনী হিসাবে। আমরা নির্বোধরা বুঝলামও না যে আমরা কি এক ভয়াবহ ফ্রাঙ্কনেস্টাইন তৈরী করলাম। সেনাবাহিনীর সামন্ত্রতান্ত্রিক উপনিবেশিক ও জনবিরোধী চরিত্র সমূলে উপড়াইয়া নাশনাল সার্ভিসের মাধমে একটা নাগরিক সেনাবাহিনী গড়ার (সিঙ্গাপুর ও আরো অনেক দেশের মত) একটা মহাসুযোগ দিল স্বাধীনতা - না আমরা, না আমাগো নেতারা, কেওই বুঝলামই না সেনাবাহিনেকে আদলে, গঠনে এবং মানসিকতায় চিরতরে জনমুখী ও জনসপ্রিক্ত করার এই সুদূরপ্রসারী মহাসম্ভবনা। এখন একবার ভাইবা দেখেন, এক বড় বেমানান সংবিধান, সামন্ত্রতান্ত্রিক গণতন্ত্র, মধ্যযুগীয় উপনিবেশিক আমলাতন্ত্র, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা আর সামন্ত্রতান্ত্রিক সশস্ত্র বাহিনীর মত মৌলিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত প্রথিষ্ঠানের বিষাক্ত মিশ্রনে অসাড় হইআ আমাদের কি কোনোদিন, কোনদিকে, কোনভাবেই আগানোর বিন্দুমাত্র সম্ভবনা ছিল? বার বার ঘুইরে মাগুর চ্যাং হওয়া ছাড়া আমাদের কি আর কোনো গতি ছিলো?
|
|||
|
(c)নির্বোধ - all rights reserved ২৫শে মে ২০১০ মতামত: nirbodh@gmail.com |
|||
|